Results for "Durga Puja"
Durga Puja : Bengali Poem

Durga Puja : Bengali Poem



Bengali Poem
Durga Puja

   আসছে পুজো


আসছে পুজো আসছে পুজো
    বলল বাতাস কানে কানে,
নীল আকাশে মেঘের ভেলা
    বলল গানে গানে।

শিউলি ফুলের পাপড়ি শুধায়
    রঙ মাখবি কে রে,
ভোরের আলো ফুটেই বলে
    আমায় রাঙিয়ে দে রে।

হাসছে দেখো খেত জুড়ে ওই
    কাশফুলের দোলা,
ঢাকের তালে নাচবে বলে
    তার সকল হৃদয় খোলা।

একে একে উঠছে ফুটে
    পদ্মফুলের দল,
দশভূজার উৎসবে তারা
    করবে কোলাহল।

আসছে উমা, মায়ের কোলে
    মায়ের যে তর সয়  না
দোকান বাজার- শপিং মলে
   ভিড় তো আর কমেই না।

শরৎ নিজের ডালি খুলে
    দিচ্ছে প্রকৃতি রাঙিয়ে,
আসছে পুজো, আসছে পুজো
    খুসির লাবন্য ঝরিয়ে।

Muktodhara Thursday, 26 September 2019
Durga Puja : Oldest Durga Puja in Kolkata

Durga Puja : Oldest Durga Puja in Kolkata


কলকাতার বনেদি বাড়ির দুর্গাপূজা:

Durga Puja in Kolkata
Durga Puja in Kolkata

 দুর্গাপূজা হল বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব। শুধুমাত্র দেবীর পূজায় মেতে ওঠা নয়, এটি পরিবার- বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে পুনর্মিলনের শ্রেষ্ঠ বাৎসরিক মুহূর্ত, যা চলে বেশ কয়েকদিন ধরে। যেন এই মুহূর্তে মিলনের আনন্দ কে পরিপূর্ণ করার জন্যই উমার দশ দিনের আগমন।
শরতের নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘ আর মাঠজুড়ে সাদা কাশফুলের আনন্দে মাথা সঞ্চালন, এটাই সবথেকে প্রিয় দৃশ্যসহ দুর্গা মায়ের আগমনের বার্তা হয়ে দাঁড়ায়।আমাদের মনে অপরিসীম আনন্দের ঝলক এনে দেয়।
কলকাতার বিশাল আকার থিম পূজা প্যান্ডেল এর পাশাপাশি সাবেকি বাড়ির পূজা গুলো নজর কাড়ার মতো। এইসব বনেদি বাড়িতে পাওয়া যায় আদি পূজার ছোঁয়া, কারণ এই বাড়িগুলোর পুজো অনেক অনেক বছর পুরনো তাই উমা যেন এইসব বাড়ির ‘ঘরের মেয়ে’ হয়ে আসেন প্রতি বৎসর। কলকাতার বনেদি দুর্গাপূজা কেবল অতীত স্মৃতি যে তা নয়, এটি সমস্ত পরিবারের মস্ত আবেগের উৎস স্থল।



সাবর্ণ রায়চৌধুরী আটচালা দুর্গা:

Durga Puja in Kolkata
Durga Puja in Kolkata

 এটি শহরের প্রাচীনতম পরিবারের দুর্গাপূজা বলে জানা যায়। রায়চৌধুরী গোবিন্দপুর, সুতানটি এবং কলিকাতার মালিক ছিলেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের কাছ থেকে 1698 সালে যে তিনটি গ্রাম অধিগ্রহণ করেছিল এই তিনটি গ্রাম, পরবর্তীকালে যা কলকাতা শহরে পরিণত হয়েছিল। পরিবারটি সেই সময় থেকেই সম্প্রসারিত হয়েছে এবং বর্ধিত পরিবারগুলি তাদের নিজস্ব পূজা শুরু করেছে। বর্তমানে এই পরিবারের মধ্যে আটটি পরিবার দুর্গাপূজা উদযাপন করছে, যার মধ্যে প্রধান আটচালা পূজা।


শোভাবাজার রাজবাড়ী দুর্গাপূজা:

Durga Puja in Kolkata
Durga Puja in Kolkata


রাজা নবকৃষ্ণ স্ট্রিটে অবস্থিত, শোভাবাজার রাজবাড়ির দুর্গাপূজা রাজা নবকৃষ্ণ দেব দ্বারা শুরু হয়েছিল। এটি অনেক পুরনো ঐতিহ্যবাহী দূর্গা পূজার মধ্যে একটি। আগেকার দিনে রাজবাড়ির বিখ্যাত নাচঘরে পূজার সময় সারারাত ধরে বাদ্যযন্ত্র অনুষ্ঠিত হয়েছিল। রাজবাড়ীতে দশমীতে নীলকন্ঠ পাখি উড়ানোর রীতি ছিল, কিন্তু বন্য সংরক্ষন আইন দ্বারা এটি নিষিদ্ধ হয়ে যায়।এখন তারা দুর্গাপ্রতিমার সঙ্গে পাখির মডেল গুলি নিমজ্জিত করে থাকেন।


রানী রাসমণি পরিবার দুর্গাপূজা:

Durga Puja in Kolkata
Durga Puja in Kolkata

 দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা, রানী রাসমনির পরিবারের দুর্গাপূজা কলকাতার অন্যতম বিশিষ্ট পারিবারিক পূজা। জানবাজারের বাসভবনে দুর্গাপূজা বর্তমানে রানী রাসমনির দুর্গাপূজা নামে বেশি সমৃদ্ধ। এই পূজাটি সর্বপ্রথম রানী রাসমনির শশুর শুরু করেছিলেন। এই পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে 13, রানী রাসমণি রোডে। কথিত এই বাড়ির উঠোনে শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব দুর্গাপূজা করতেন।
 রানী রাসমণির চার কন্যা ছিল। 1861 সালে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর মেয়ে ও জামাইরা নিষ্ঠার সঙ্গে পূজা উদযাপন করতেন। তবে 13 বছরের দূর্গা পূজা রানী রাসমণি রোড এখন হাজরা পরিবার দ্বারা পরিচালিত হয়। দ্বিতীয় পূজা বিশ্ব পরিবার কর্তৃক আঠারো রানী রাসমণি রোডে অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় পূজা চৌধুরী পরিবার 18/3 সুরেন্দ্র নাথ ব্যানার্জি রোড উদযাপিত হয়।


পাথুরিয়াঘাটা ঘোষ দুর্গাপূজা:

Durga Puja in kolkata
Durga Puja in Kolkata

পাথুরিয়াঘাটা ঘোষ দুর্গাপূজাটি সম্পন্ন হয়, 50 ফুট দীর্ঘ মার্বেল করিডরের ঠাকুরদালানে। বাবু খেলার চন্দ্র ঘোষ প্রখ্যাত অভিনেতা এবং ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত নৃত্য ও অন্যান্য শিল্পকর্মের উৎসাহী ছিলেন। এখানে শত বছরের পুরানো বেলজিয়াম কাচের ঝাড়বাতি ও ফাংশন ক্রোনোমিটার গ্রান্ডফাদার ক্লক দেখতে পাওয়া যায়। এই জনপ্রিয় দুর্গাপূজা প্রায় 170 বছরের পুরানো। দুর্গাপূজাতে পারিবারিক ঘরে তৈরি মিষ্টি দেওয়ার রীতি রয়েছে মা দুর্গাকে, এছাড়া চন্দনাথ নামে বিশেষ পদ্মপুরাণ রেওয়াজ।
মহাসপ্তমীর সকালে প্রতিমাকে 7টি সমুদ্র এবং 13 টি নদীর জল এবং 12 টি ফলের রস দিয়ে স্নান করানো হয় ও মহাঅষ্টমীতে মাতৃ চিনি নামে পরিচিত চিনির কাঠামোর প্রতীকী যোজ্ঞ এখানে সম্পন্ন করা হয়।


পূর্ণ চন্দ্র ধর পরিবার দুর্গাপূজা:


 পূর্ণ চন্দ্র ধর পরিবার দুর্গাপূজায় দেবীর মূর্তি অনন্য রূপবতী হয়। এই পূজাতে দেবী অভয় রূপে পূজিত হন। দেবীর দশ হাতের বদলে দুটি হাত, কোনো মহিষাসুর নেই তবে দেবীর পায়ের কাছে দুটি সিংহ বসে আছে। হালিশহর থেকে 1950 সালে এই পরিবার কলকাতায় এসেছিল। পূর্ণ চন্দ্র ধর সেই সময়কার ব্রিটিশ সংস্থার এন্ড স্কিনারের ক্যাশিয়ার ছিলেন। পূর্ণচন্দ্র এখানে 157 বছর আগে দুর্গাপূজা শুরু করেছিলেন যা এখনো মহাসমারোহে উদযাপিত হচ্ছে।

Muktodhara Wednesday, 25 September 2019
Durga Puja : Durga Puja in Kolkata

Durga Puja : Durga Puja in Kolkata



Durga Puja in Kolkata

Durga Puja in Kolkata


কলকাতার দুর্গাপূজা উৎসব,অন্য কথায় বলতে গেলে মানুষের সারা বছরের একঘেয়ে কাজের অবসর ও আনন্দে ভেসে যাওয়ার মুহূর্ত।বিশাল এক সমাগম অপেক্ষা করে আছে 2019 সালের জন্যও। ঢাকে কাঠি পড়ল বলে! যখন বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা আত্মীয়-বন্ধু পরিবারের সাথে একত্রিত হয়ে আনন্দের মুহূর্তকে সাজিয়ে তোলে।এই দিনগুলিতে কলকাতার অন্ধকারতম কোণেও আলোর ঝলকানি চোখে পড়বে আপনার।এটি এমন এক ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান যা সংস্কৃতিকে নতুন রঙে উদ্ভাসিত করে।কলকাতার দুর্গাপূজা মানেই হাজার খানেক এরও বেশি থিমযুক্ত প্যান্ডেলের নজরকাড়া বিস্ফোরণ এবং একাধিক রূপে দেবী দুর্গার প্রতিমা নির্মাণের সফল উদ্যোগ।ফলে বিশাল সংখ্যক ভিড় টানতে এটি বিশ্বের বৃহত্তম শরতকাল উৎসবে পরিণত হয়। এই ব্লগটি আপনাদের সেই বৃহত্তম উৎসবের একটি ছোট্ট ঝিলিক দেবে।


✓সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার:

Durga Puja in Kolkata

Durga Puja in Kolkata



সন্তোষ মিত্র স্কয়ারটি 80 বছরেরও বেশি সময় ধরে দুর্গাপুজোর আয়োজক। কলকাতার শীর্ষ দূর্গাপূজা প্যান্ডেল গুলির কথা বলতে গেলে এটি খুবই জনপ্রিয় নাম।
2017 সালে লন্ডন থিমটি বেছে নিয়ে এই পূজা প্যান্ডেলটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল। এর মধ্যে দেবী দুর্গাকে সাজানো হয়েছিল সেটিংসের মত বাকিংহাম প্রাসাদে। 2018 সালে প্যান্ডেলটিতে প্রায় 10 টন রৌপ্য দিয়ে তৈরি রথ ছিল এবং প্যান্ডেলের উচ্চতা 60 ফুট ছিল এছাড়াও দেবীদুর্গা শাড়িটির ওজন ছিল 30 কেজি সোনার।
এই বছরেও পূজা কমিটি এমন কিছু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা প্রচুর ভিড় টানতে পারবে। এই বছর মা কনক-দুর্গা হয়ে আসছেন অর্থাৎ আসল কথায় দেবীর মূর্তি তৈরি হবে আপাদমস্তক 50 কেজি সোনা দিয়ে এবং এর পূজা মণ্ডপ তৈরি হবে ইসকনের মন্দির এর অনুকরণে।

√কলেজ স্কোয়ার:

Durga Puja in Kolkata

Durga Puja in Kolkata



 কলেজ স্কোয়ার মাঝখানে সুইমিংপুলের জলাশয় এবং তাকে ঘিরে চারিদিকে অপরূপ সুন্দর পার্ক।1948 সালে প্রতিষ্টিত এই পুরো বর্গক্ষেত্রটির দূর্গোৎসবের সময় আলোকসজ্জা দ্বারা সজ্জিত হয়ে গেলে স্থানটি একেবারে স্বপ্নের মত সুন্দর দেখায়।2019 সালে এই কলেজ স্কোয়ারের প্যান্ডেলের ভেতরের থিম হলো রাজপ্রাসাদের ভিতরের অংশের রূপ যার মাঝে থাকবে প্রায় 1500 স্কোয়ার ফুটের একটি ঝাড়বাতি,এবং বাইরের থিম হবে রাজস্থানের উমেদ ভবন প্যালেস।

√হিন্দুস্তান ক্লাব:

Durga Puja in Kolkata

Durga Puja in Kolkata



শরৎ বোস রোডে হিন্দুস্তান ক্লাব কলকাতার একটি বিখ্যাত পূজামণ্ডপের প্রতীক হিসাবে খ্যাত।ক্লাবটি হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া অসাধারন থিম গুলির সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ভাবে দুর্গাপূজার জন্য জনপ্রিয়।প্রতিবছরই ক্লাবটি একটি আকর্ষণীয় থিম নিয়ে আসার চেষ্টা করে যা বিশাল সংখ্যক ভিড়কে আকর্ষণ করে।

√কুমারটুলি পার্ক:

Durga Puja in Kolkata

Durga Puja in Kolkata



 এটি উত্তর কলকাতার অন্যতম কনিষ্ঠ এবং খুবই বিশিষ্ট দুর্গোৎসব, যা দেবী দুর্গার মহিমা আশ্চর্য উপায় প্রদর্শন করে।কুমারটুলি পার্কের প্যান্ডেল পুরনো শিল্প ফ্যাশন এবং মহাকর্ষ স্থাপত্যের একটি সংমিশ্রণ প্রদর্শন করে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতিটি দিকে তুলে ধরে।এখানকার পূজার আরো একটি বিশেষত্ব হলো এখানে দুর্গাপ্রতিমা পেশাদার মৃত্তিকা প্রস্তুতকারকরা তাদের নিপুণ হস্তশিল্পের দ্বারা সৃষ্টি করেন।
উল্লেখযোগ্য, কুমারটুলির এই কুমোর দ্বারা তৈরি দেবী দুর্গার ও অন্যান্য দেব-দেবীর মুর্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কানাডা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোতেও রপ্তানি করা হয়।

√শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব:

Durga Puja in Kolkata

Durga Puja in Kolkata



 পিএস লেকটাউনের এই শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব খুবই সমৃদ্ধশালি পূজার মন্ডপ।এই ক্লাব 2017 সালে বাহুবলির মাহেশমতির মতো বিশাল প্রাসাদের অনুরূপ মডেল তৈরি করে।লাইট, সাজসজ্জা এবং প্রাণবন্ত পরিবেশের সাথে প্যান্ডেলটি অনবদ্য সুন্দর হয়ে উঠেছিল।2018 সালে পদ্মাবত মুভি সাদৃশ্য রাজমহল তৈরি করে মানুষের মন কেড়ে নেয় এই ক্লাব। একটি মানুষের আকর্ষণের একটি বিশেষ স্থান।

√দেশপ্রিয় পার্ক:

Durga Puja in Kolkata

Durga Puja in Kolkata



দেশপ্রিয় পার্ক অন্যতম দর্শনীয় দুর্গাপূজার জন্য পরিচিত। কলকাতায় ঠাকুর দেখতে যাওয়া কেউই এটি মিস করতে পারেন না।এই প্যান্ডেলটি বছরের পর বছর থাইল্যান্ডের হোয়াইট টেম্পল গুলির মত একটি অনন্য থিম দিয়ে মানুষকে মুগ্ধ করে আসছে। এই বছরেও তাদের প্রস্তুতি চূড়ান্ত।

√মানিকতলা চালতাবাগান লোহাপট্টি দুর্গাপূজা:

Durga Puja in Kolkata

Durga Puja in Kolkata



 কলকাতার প্রাচীনতম ও সমৃদ্ধতম উদযাপন গুলির মধ্যে এটি একটি। 1943 সালে প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মী চাঁদ জয়সওগাল দ্বারা শুরু হয়েছিল। এটি যদিও অন্যান্য মন্ডপের থেকে আলাদা তাও শহরের সেরা মন্ডপের মধ্যে অন্যতম বলে জানা যায়।


√বাদামতলা আষাঢ় সংঘ:

Durga Puja in Kolkata

Durga Puja in Kolkata




 2010 সালে সেরা প্যান্ডেলের পুরস্কার জেতার পর বাদামতলা আষাঢ় সংঘ প্রতিটি পূজো দর্শকেরই কৌতূহলের অংশ হয়ে উঠেছে। এই বছর 2019 সালে তাদের থিম হচ্ছে বিন্দু। বিন্দু দিয়ে কিভাবে সৃষ্টি সম্ভব এটাই তাদের নতুন প্রয়াস,এটি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।


√সুরুচি সংঘ:

Durga Puja in Kolkata

Durga Puja in Kolkata



 প্রত্যেক বছর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের থিমযুক্ত সৃজনশীল বহিরঙ্গন প্রদর্শনীর সাথে কলকাতার সুপার স্নাকবার নিউ আলিপুর সুরুচি সংঘ দূর্গা প্যান্ডেল মানুষের আগ্রহ এবং কৌতূহলের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।এই পূজাটি 50 বছরেরও বেশি পুরানো 2003 সালে এটি সেরা পূজা প্যান্ডেল এর পুরস্কার পায়।

Muktodhara Monday, 23 September 2019
Bengali Romantic Poem : শরৎ এসে গেছে | Durga Puja Poem
Bengali Romantic Poem

  Durga Puja Poem


Bengali Romantic Poem |

  Durga Puja Poem: 

    

   শরৎ এসে গেছে


পাঁচিল ঘেরা বদ্ধ ঘরে
    আর লাগে না ভালো,
কাদা মাখা রাস্তা পেরিয়ে
    শরৎ যে এসে গেল।

হাতে তার ঢাকের কাঠি
    বাজছে মধুর সুরে,
কাশফুলেরাও মেলা বসালো
    রাখালের খেত জুড়ে।

শিউলি ফুলের গন্ধে পূর্ণ
    উষার আলোর রঙিন ডালা,
ভোর পথিকের মনেতে আজ
    দেয় যে খুশির দোলা।

কুমোর শিল্পীরা ব্যস্ত বড়
    নেই কোনো বিশ্রাম,
মন্ডপেতে ভিড় লেগেছে
    হাজার আলোর সরঞ্জাম।

এত উৎসাহের মাঝে
    এসে গেছে আশ্বিন মাস,
দেবী দুর্গার আগমনে তাই
    সকলের মনে আনন্দের উচ্ছাস।

                   ----------

Muktodhara Sunday, 22 September 2019
Durga Puja : Best Commentator of Mahishasura Mardini |
Life story of Birendra Krishna Bhadra

Durga Puja Special : Life Story of Birendra Krishna Bhadra


Durga Puja  : Life Story of Best Commentator of Mahishasura Mardini - Birendra Krishna Bhadra


মা দুর্গার প্রথম আগমন বাণী বেজে ওঠে মহালয়ার ভোরের আকাশ জুড়ে। আর মহালয়া মানেই বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র-এর সুমধুর, ব্যক্তিত্বপূর্ণ কন্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী পাঠ।

সকলের প্রিয় এই আগমনী দূত বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র(৪ আগষ্ট,১৯০৫ - ৩ নভেম্বর,১৯৯১) ছিলেন একাধারে ভারতীয় বাঙালি বেতার সম্প্রচারক আবার নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক। ১৯৩০-এর দশক থেকে দীর্ঘকাল তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিওয় বেতার সম্প্রচারকের কাজ করেছেন। কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য নাটক রচনা এবং প্রযোজনা করেছেন।

প্রথম জীবন ও শিক্ষা

১৯০৫ সালের ৪ আগস্ট বীরেন্দ্রকৃষ্ণের জন্ম হয় উত্তর কলকাতায় তাঁর মাতুলালয়ে। তাঁর পিতা ছিলেন রায়বাহাদুর কালিকৃষ্ণ ভদ্র এবং মা ছিলেন সরলাবালা দেবী। বীরেন্দ্রকৃষ্ণের ঠাকুমা যোগমায়া দেবীর কেনা ৭, রামধন মিত্র লেনে উঠে আসেন পরবর্তীকালে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণের প্রথম সংস্কৃত শিক্ষা তাঁর ঠাকুমার কাছেই পান। কালিকৃষ্ণ ভদ্র ছিলেন বিশিষ্ট বহুভাষাবিদ, তিনি সর্বমোট ১৪টি ভাষা জানতেন। তিনি নিম্ন আদালতে দোভাষীর কাজ করতেন।কালিকৃষ্ণ পুলিশ কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী কালীচরণ ঘোষের দ্বিতীয় সন্তান সরলাবালা দেবীকে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলা সাহিত্যে জগতে এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁর আর এক পুত্রের নাম ভূপেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। ১৯২৭ সালে তিনি রায়বাহাদুর খেতাব পান।

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ১৯২৬ সালে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯২৮ সালে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তারই ফাঁকে ফাঁকে চলেছিল কম্বুলিয়াটোলায় ‘চিত্রা সংসদ’ ও সাহিত্য সাধক নলিনীরঞ্জন পন্ডিত প্রতীক্ষিত ‘অর্ধেন্দু নাট্য পাঠাগার’-এ গানবাজনা ও অভিনয় চর্চা।

কর্মজীবন

 ১৯২৮ সালে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ের সদর দপ্তরে যোগ দিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু তাঁর মন পড়ে থাকত ১ নম্বর গার্স্টিন প্লেসের বেতার কেন্দ্রে।
১৯৩০ সালে তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিওতে যোগ দেন। এই সময়েই দূর্গা পূজা উপলক্ষে দেবী দুর্গার পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে দুই ঘন্টার সঙ্গীতালেখ্য মহিষাসুরমর্দিনী অনুষ্ঠানের সঙ্গে তিনি যুক্ত হন। এই বেতার সঙ্গীতালেখ্যটির জন্য তিনি সর্বাধিক বেশি পরিচিত। এই অনুষ্ঠানটির গ্রন্থনা করেছিলেন বাণীকুমার ভট্টাচার্য এবং সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন পঙ্কজকুমার মল্লিক। ভাষ্য ও শ্লোক পাঠ করেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। ১৯৩১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত মহালয়ার দিন ভোর চারটের সময় কলকাতার আকাশবাণী থেকে এই অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হয়।

এই অনুষ্ঠানটি এতটাই জনপ্রিয় হয় যে, ১৯৭৬ সালের মহালয়াতে আকাশবাণী কর্তৃপক্ষ বীরেন্দ্রকৃষ্ণের পরিবর্তে মহানায়ক উত্তম কুমারকে দিয়ে অন্য একটি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করলে তা মানুষের মনে বিরূপ ভাব সৃষ্টি করে। যার ফলস্বরূপ, ষষ্ঠীর দিন আকাশবাণী কর্তৃপক্ষকে সেই অনুষ্ঠানের পরিবর্তে মূল মহিষাসুরমর্দিনী সম্প্রচারিত করতে হয়।

অনেক নাটক রচনার সঙ্গে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ১৯৫৫ সালে ‘নিষিদ্ধ ফল’ নামে একটি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচনা করেছিলেন। তিনি একাধিক ধ্রুপদী কাহিনীকে বেতার নাট্যের রূপ দেন। ‘মেস নং ৪৯’ সহ তিনি একাধিক নাটকের শ্রষ্টা। ১৯৫২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘সুবর্ণগোলক’ গল্পটিকে তিনি নাট্যায়িত করেন। বিমল মিত্রের লেখা ‘সাহেব বিবি গোলাম’ উপন্যাসটিকে তিনি মঞ্চায়িত করেছিলেন।
১৯৯১ সালের ৩ নভেম্বর এই মহান বহু প্রতিভাসম্পন্ন মানুষটির জীবনাবসান ঘটে কলকাতাতেই।

২০০৬ সালের মহালয়ার দিন বীরেন্দ্রকৃষ্ণের কন্যা সুজাতা ভদ্র সারেগামা ইন্ডিয়া লিমিটেডের তরফ থেকে তার পিতার মহান কীর্তির রয়্যালটি স্বরূপ ৫০,৯১৭ টাকার একটি চেক পান।

                                   ---------

Muktodhara